শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাঁদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ভারতের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ।
আজ রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ভারতের নাগরিক পূর্তি ও সামী ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সরাসরি সহায়তা করেছেন। এর আগে সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতা করেন ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামের আরও দুজন, যাঁরা অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজার, সেখান থেকে গাড়িতে কালামপুর হয়ে ময়মনসিংহ সীমান্তে যান। এরপর ফিলিপ পাল তাঁদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। তুরা এলাকায় তাঁদের পূর্তির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে সামীর গাড়িতে করে তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৪ জন সাক্ষীও আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সব নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, শহীদ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে তাঁকে গুলি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তাঁর জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষ অংশ নেন।
এদিকে হাদি হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ বেলা দুইটা থেকে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ।
